চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতেই তাইওয়ান প্রসঙ্গ তোলেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, “তাইওয়ান প্রশ্নই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” একই সঙ্গে তার সতর্কবার্তা, এই ইস্যু ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সরাসরি সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে পারে এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফরে বেইজিং পৌঁছে ট্রাম্প শি জিনপিংকে “মহান নেতা” ও “বন্ধু” বলে অভিহিত করেন। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সামরিক ব্যান্ড, গান স্যালুট ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি ছিল জাঁকজমকপূর্ণ।
তবে কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালেও শি স্পষ্ট করে দেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে এগোতে হবে। এ সময় তিনি ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বশাসিত দ্বীপ Taiwan–কে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে China। বেইজিং বহুবার বলেছে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও তারা তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে চীনের সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে।
অন্যদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চললেও United States নিজস্ব আইনের আওতায় তাইওয়ানকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে।
শি জিনপিংয়ের বক্তব্যের পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তাইপে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য “একমাত্র ঝুঁকি” হচ্ছে চীন।
তাদের ভাষ্য, চীনের সামরিক মহড়া, বাড়তি সামরিক চাপ এবং তথাকথিত ‘গ্রে-জোন’ কর্মকাণ্ডই এই অঞ্চলের প্রধান হুমকি। একই সঙ্গে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার বেইজিংয়ের নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুই বর্তমানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও বিস্ফোরক বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, ইরান, বিরল খনিজ রপ্তানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে।