কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চিপের বাজারে ব্যাপক চাহিদার ওপর ভর করে গত বুধবার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের বাজারমূল্য ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং। এর ফলে সিউলের শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে পাল্লা দিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন উচ্চ প্রযুক্তির চিপের দিকে ঝুঁকছে। এই চিপ সরবরাহের দৌড়ে স্যামসাং এবং তাদের দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এখন অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
গত সপ্তাহে স্যামসাং তাদের প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ তিনটি এআই পরাশক্তির একটি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বুধবার সকালে লেনদেন শুরুর পর স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করে।
একই সময়ে আরেক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ লেনদেনের শুরুতেই ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
গত এক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে, যার ফলে গত এক বছরে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ।
ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (টিএসএমসি) পর দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূলধনের মাইলফলক স্পর্শ করল স্যামসাং।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে (৩৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মেমোরি চিপের এই উচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে।
এএফপি।