মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথাতে অবস্থান করছেন। জাহাজের ফ্লাইট ডেকে অবতরণের পর হেলিকপ্টারটিতে বসেই নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভার ছবি তোলেন। তাঁদের হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, নভোচারীরা এখন কেমন আছেন? এর উত্তরে আর্টেমিস-২ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এন্ট্রি ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং বলেন, সবাই ‘খুশি এবং সুস্থ’ আছেন।
পৃথিবীতে ফিরে আসার প্রথম দিনে নভোচারীরা কী করবেন, তা সংবাদ সম্মেলনে নাসার কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে রিক হেনফ্লিং বলেন, নাসার প্রধান অগ্রাধিকার হলো নভোচারীদের দ্রুত তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
এই অভিযানে চার নভোচারীসহ ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে, যা পৃথিবী থেকে মানুষের ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড। এর আগে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীরাই সবচেয়ে দূরে গিয়েছিলেন। ওই সময় তারা পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছিলেন।
অবতরণের সময় ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে সমুদ্রে আঘাত করে, যা তীব্র ধাক্কা সৃষ্টি করে। পানির ওপর আঘাতের এই অভিজ্ঞতাকে অনেক নভোচারী শক্ত দেয়ালে আঘাতের মতো বলে বর্ণনা করেছেন। অবতরণের পর ক্যাপসুলের নিচে থাকা এয়ারব্যাগগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে সেটিকে স্থিতিশীল রাখে। ক্যাপসুলের হ্যাচ বা বহিরাবরণ খোলার আগে ডুবুরিরা ক্যাপসুলের চারপাশের বাতাস ও পানি পরীক্ষা করেছেন
উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর ডুবুরি ও হেলিকপ্টার অংশ নেয়। নিরাপত্তা যাচাই শেষে একে একে চার নভোচারীকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সবাই সুস্থ আছেন।
নাসার কর্মকর্তারা এই মিশনকে প্রত্যাশার চেয়েও সফল বলে উল্লেখ করেছেন এবং একে “বিশ্বের জন্য উপহার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা জানান, এই অভিযান মানব মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা করেছে।