তারেক রহমানের এই দূরদর্শিতা এবং মাটির কাছাকাছি থাকার অনন্য গুণটি হুট করে আসেনি। তার ধমনীতে বইছে এক মহান দেশপ্রেমিক ও সৎ রাষ্ট্রনায়কের রক্ত। তার পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক সেনাপ্রধান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা ও কর্মঠতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যিনি কখনো বিলাসিতা পছন্দ করতেন না, যার খাল খনন কর্মসূচি এবং সাধারণ কৃষকের সঙ্গে মাটিতে বসে ভাত খাওয়ার দৃশ্য আজও এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
একইভাবে তার মাতা, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া; যিনি আপসহীন দেশপ্রেম এবং জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। পিতা-মাতার সেই সততা, অকুতোভয় চেতনা এবং দেশপ্রেমের মহৎ শিক্ষা নিয়েই আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। দেশ ও সেনাবাহিনীর প্রতি তার এই টান যেন পারিবারিক ঐতিহ্যেরই এক অনন্য ধারাবাহিকতা।

ইতিহাসের পাতায় এক সোনালী অধ্যায় রচিত হলো গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই)। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের চিরাচরিত বেড়াজাল ভেঙে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হলেন। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ‘৮ বীর’-এর প্রশিক্ষণ এলাকায় যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এসে থামে; তখন মাঠপর্যায়ের সাধারণ সৈনিকদের বিস্ময় ও আনন্দের সীমা ছিল না।
কোনো ধরনের কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিখুঁত এক ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। সবচেয়ে মুগ্ধকর দৃশ্যটি তৈরি হয় যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা সাধারণ সেনাসদস্যদের একেবারে কাছে চলে যান। তাদের কাঁধে হাত দিয়ে খোঁজখবর নেন, রণকৌশল নিয়ে কথা বলেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়ানো এই বীরদের গভীর উৎসাহ দেন।
পরিদর্শনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তার অকৃত্রিম আন্তরিকতা। কোনো রাজকীয় আয়োজন নয়, প্রধানমন্ত্রী নেমে গেলেন অন্ধকার সেনা বাঙ্কারে। সেখানে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সৈনিকদের সঙ্গে মাটিতে বসে গল্পে মাতলেন। শুধু তা-ই নয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেনাদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক সাধারণ রান্না করা খাবার তিনি সানন্দে মুখে তুলে নিলেন, তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন এক কাপ চা।
দেশের সরকারপ্রধানকে এভাবে নিজেদের বাঙ্কারে, নিজেদের প্লেট থেকে খাবার খেতে দেখে উপস্থিত সেনাসদস্যদের চোখ আনন্দে ও আবেগে ভিজে ওঠে। এটি কেবল একটি আহার ছিল না, এটি ছিল একজন সেনাপ্রধানের সন্তানের তার পিতার উত্তরসূরিদের প্রতি এক গভীর ও আত্মিক টান। সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের যে অগাধ আস্থা, তারই এক অনন্য প্রতিফলন ঘটালেন তিনি।

তারেক রহমান কেবল মাঠেই সাধারণ নন, তার রাষ্ট্রীয় পরিচালন পদ্ধতিতেও এনেছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতেই প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা (এমনকি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা) উড়ানো হতো, সেখানে তারেক রহমান দেখিয়েছেন মিতব্যয়িতার আসল রূপ। গত জুন মাসে তার কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয় ছিল মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকা! এমনকি দুই ঈদে যমুনার অনুষ্ঠানেও ব্যয় কঠোরভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নৈশভোজটি এক ঝটকায় বাতিল করে দিয়েছেন তিনি, যার ফলে এক রাতেই সাশ্রয় হয়েছে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
জনগণকে কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজেই এর প্রথম উদাহরণ তৈরি করেছেন। সরকারি গাড়ির জৌলুস বর্জন করে নিজের ব্যক্তিগত ‘টয়োটা’ গাড়ি চড়ছেন প্রধানমন্ত্রী। যার তেলের খরচ থেকে শুরু করে চালকের বেতন; সবই যাচ্ছে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। ঢাকার রাস্তায় যানজট ও জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিজের গাড়িবহর ১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে এনেছেন এবং রাস্তার দুই পাশে শত শত পুলিশ দাঁড় করিয়ে রাখার সামন্তবাদী প্রথা চিরতরে বিলুপ্ত করেছেন।
এমনকি ঢাকার বাইরে যাতায়াতের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সংবাদের সাধারণ বাস! মন্ত্রীদের যাতায়াতের খরচ ও সময় বাঁচাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরিয়ে এনেছেন সচিবালয়ে।
নিজের দল ও প্রশাসনের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এনেছেন এই ‘স্টেটসম্যান’। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের কোনো আইন প্রণেতা করমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা পাবেন না। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয় ও মাসিক জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়েছেন, সব ধরনের সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও মহোৎসব স্থগিত করেছেন। সরকারি কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অপচয় রোধ করাকে তিনি ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

বাস্তবধর্মী রণকৌশল পরিদর্শন, সাধারণ সেনাদের সঙ্গে বাঙ্কারে বসে আহার; আর রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোর সততা ও মিতব্যয়িতার এই যে মেলবন্ধন, তা বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। পিতা শহিদ জিয়ার মতো সততা আর মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে তারেক রহমান আজ বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন।
বিলাসিতা, অহংকার আর প্রটোকলের দেয়াল ভেঙে তিনি যেভাবে দেশের মানুষের এবং সেনাবাহিনীর হৃদয়ের কন্দরে প্রবেশ করছেন; তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ক্রান্তিলগ্নের ত্রাতা এবং এক সফল ‘স্টেটসম্যান’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম নিশ্চিতভাবেই স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।