আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জুন রাতে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় নিষিদ্ধ ও আড়ালে থাকা যুবলীগের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে হঠাৎ বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তারা এলাকা ত্যাগ করে। শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের আরও কয়েকটি জেলা শহর থেকে গভীর রাতে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর এমন ছোট ছোট ‘ঝটিকা মিছিল’ ও মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের এমন হঠাৎ মাঠে নামার চেষ্টা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে বড় ধরনের নাশকতার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ডিএমপি বলছে, ‘২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটিকে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দলটির অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল পেজ থেকে একের পর এক পোস্ট, ভিডিও ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বড় অংশ দলটির কর্মী-সমর্থকদের দখলে চলে গেছে। তারা ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের রাজপথে নামার ডাক দিচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মাঠের কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সেল কাজ করছে।
আওয়ামী লীগের এই আকস্মিক তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ও শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন, তাহলে কি আরেকটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ? মাঠপর্যায়ে গুঞ্জন উঠেছে, তবে কি ২৩ জুন বড় কোনো ধাক্কা দিয়ে আবারও দৃশ্যপটে আসার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বিদেশে থাকলেও মাঠপর্যায়ের অবশিষ্টাংশ এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। আর এ কারণেই তারা যেকোনো মূল্যে রাজপথে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়, যা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টাই বরদাশত করা হবে না।
পুলিশ বলছে, রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট)। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে এবং বিশেষ করে রাতে টহল পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ককটেল বিস্ফোরণ বা অবৈধভাবে রাস্তা দখলের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলেই নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।