জাতীয় সংসদ ভবনের উচ্চ কক্ষ, যেখানে দেশের ভাগ্যনির্ধারণী আইন ও নীতি প্রণীত হয়, সেখানে সাধারণত এক ধরনের কঠোর প্রটোকল ও গাম্ভীর্য বজায় থাকে। কিন্তু সম্প্রতি এই চত্বরেই দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক ভালোবাসার চিত্র। সংসদ পরিদর্শনে আসা শিশু শিক্ষার্থীরা যখন অতিথি হিসেবে গ্যালারিতে উপস্থিত হলো, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথাগত সব প্রটোকলের দেয়াল ভেঙে তাদের মাঝে নেমে এলেন।
তিনি কেবল শিশুদের সাথে কুশল বিনিময়ই করেননি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সাথে আড্ডায় ও আনন্দঘন মুহূর্তে মেতে ওঠেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও সম্পূর্ণ নিরহংকার চিত্তে শিশুদের উচ্চতায় নেমে এসে, তাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং তাদের মন দিয়ে শোনার এই যে দারুণ মানবিক দিক; তা শিশুদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। এটি কেবল একটি সুন্দর মুহূর্তই নয়, বরং এই খুদে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা তাদের আগামীর বাংলাদেশ গঠনে এবং নেতৃত্ব দিতে আজীবন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
রাজনীতিবিদদের জনসাধারণের সাথে মেলামেশার অনেক দৃশ্যই চোখে পড়ে, কিন্তু শিশুদের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেলবন্ধনটি সম্পূর্ণ সহজাত ও আন্তরিক। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তার এই শিশুমনস্কতার রূপটি বারবার ফুটে ওঠে। কোনো শিশু সামনে এলেই তিনি তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরছেন, হাসিমুখে কোলে তুলে নিচ্ছেন কিংবা সাবলীলভাবে বসে পড়ছেন তাদের সাথে ছবি তুলতে।
শিশুরা খুব দ্রুত মানুষের ভেতরের খাঁটি স্নেহ অনুধাবন করতে পারে। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর মাঝে তারা কোনো দূরবর্তী ক্ষমতাধর শাসককে দেখে না, বরং দেখে একজন আপনজনকে। খুব দ্রুত শিশুদের আপন করে নেওয়ার এই অনন্য গুণটি প্রমাণ করে যে, এটি কোনো রাজনৈতিক লোকদেখানো আচরণ নয়, বরং তার ভেতরের এক চিরসবুজ ও সংবেদনশীল মানুষের বহিঃপ্রকাশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রবল শিশুমনস্কতার পেছনে রয়েছে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র, যার মূল প্রোথিত তার পারিবারিক ঐতিহ্যে। তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘নতুন কুঁড়ি’ ছিল তারই দূরদর্শী ও শিশুতোষ উদ্যোগের ফসল। অন্যদিকে, তার মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শিশুদের প্রতি ছিলেন সমভাবে আন্তরিক ও স্নেহপ্রবণ। শিশুদের অধিকার রক্ষা ও মেধা বিকাশের নানা কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি দেশের মানুষ চিরকাল মনে রেখেছে।
পারিবারিক এই গভীর মূল্যবোধ এবং শৈশব থেকে দেখে আসা বাবা-মায়ের মানবিক শিক্ষা আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আচরণে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি যেন সেই পারিবারিক উত্তরাধিকারেরই এক যোগ্য উত্তরসূরি, যিনি নিজের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন যে, শিশুদের প্রতি ভালোবাসা কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি রক্তের সাথে মিশে থাকা এক পরম মমতা।
একজন শিশুমনস্ক রাষ্ট্রনায়কের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক শিশু অধিকার, শিশু শিক্ষা এবং তাদের মানসিক বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী বার্তা বহন করে। যখন দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবক শিশুদের এতটা গুরুত্ব দেন, তখন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজব্যবস্থা শিশুদের অধিকারের প্রতি আরও সচেতন হতে বাধ্য হয়।
আজকের বাংলাদেশ যখন একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, তখন শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই শিশুসুলভ আন্তরিকতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিশু নির্যাতন রোধ এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের পথকে আরও সুগম করবে। শিশুদের চোখে আগামীর যে সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন আজ ডানা মেলছে, সেই স্বপ্নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছেন এই মানবিক রাষ্ট্রনায়ক।