প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি সফরই বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরকে অত্যন্ত সফল ও অর্থবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এই সফরের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
৯টি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সহযোগিতা: বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ভূ-রাজনীতি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, পর্যটন ও সেমিকন্ডাক্টরসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।
শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচন ও অভিবাসন ব্যয় হ্রাস: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাশাপাশি বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিকদের মালয়েশিয়া গমনের অভিবাসন ব্যয় (মাইগ্রেশন কস্ট) উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে অংশীদারত্ব: বিশেষ করে শ্রম-নির্ভর শিক্ষার প্রসারে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে বাংলাদেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কারাবন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ: মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জেলে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী নানা আইনি জটিলতায় অন্তরীণ রয়েছেন, তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত আইনি মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বমঞ্চে পাশে থাকা: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কীভাবে বাংলাদেশের পক্ষে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতা ইতিবাচক রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মালয়েশিয়া সফরের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা দারুণভাবে সফল হয়েছে।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ: চীনের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, ভারী শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চীনের নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে বড় ধরণের আশ্বাস মিলেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা: এশীয় অঞ্চলে শান্তি, অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা রক্ষায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এশীয় অংশীদারদের সঙ্গে বর্তমান সরকারের এই শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক নতুন গতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী সফরগুলোর সুফল হিসেবে আগামী দিনগুলোতে দেশে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে এবং দেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।