রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল সিন্দুরখান রোডে অবস্থিত ‘জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা’য় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটক রাকিবুল হাসান মিরাজ শ্রীমঙ্গল উপজেলার সুনগইড় গ্রামের রফিক মিয়া ও সফিনা বেগমের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে শিশুটিকে বলাৎকার ও নিয়মিত মারধর করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নির্মম নির্যাতনের ফলে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ রোববার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের অনৈতিক নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে শিশুটিকে পুনরায় বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ফুটে ওঠে। পরবর্তীতে নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির অভিভাবকরা শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানায়, আটক শিক্ষককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। শিশুটির শরীরে শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর- ৩৩) দায়ের করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক সত্যতা যাচাইয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।