তিনি বলেন, সৌদি আরবের পাশে শুধু কূটনৈতিকভাবে নয়, প্রয়োজন হলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারে পাকিস্তান। সৌদি নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সহায়তা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও এসময় জানিয়েছেন তিনি।
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা সৌদি আরবকে নিশানা করে বাড়তে থাকার মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এসেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের সেনারা এরই মধ্যে দেশটিতে মোতায়েন রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তাদের একটি অংশ মক্কা ও মদিনায় ইসলামের দুটি পবিত্রতম স্থান সুরক্ষায় কাজ করছেন। পাশাপাশি, সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা দিতে পাকিস্তান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে, সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে আরও সেনা পাঠানোর অনুরোধ করেছে কি না, তা জানাননি আহমেদ শরীফ চৌধুরী। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের অংশ নেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো অনুরোধ আছে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলেননি তিনি।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আওতায় গত এপ্রিলেও সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান। সে সময় ইরান ও তার মিত্রদের হামলার মুখে পড়েছিল সৌদি আরব।
এরপর গত মাসে তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরব ও পাকিস্তান আরেকটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। তবে, চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা হলে বা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে এ চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তবে, চুক্তির বিস্তারিত জানাননি তিনি।
চুক্তিটির পুরো কার্যকরী বিধান প্রকাশ করা না হলেও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মক্কা চুক্তিটি ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো কাজ করবে। অর্থাৎ কোনো দেশ আক্রান্ত হলে চুক্তিভুক্ত মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইতে পারবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতগুলোতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ধরে রাখতে চায়। এ কারণে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে দুই দেশই আগ্রহী নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহমেদ শরীফ চৌধুরীও বলেছেন, আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য পাকিস্তান আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, ইয়েমেনের বিদ্রোহী বাহিনী হুথিদের সৌদি আরবকে নিশানা করে বাড়তে থাকা হামলার মধ্যেই এসব প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, এ মুহূর্তে চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। তবে, প্রয়োজনের সময় ইসলামাবাদ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছিল তারা।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, মক্কার দিকে যাওয়া একটি হুথি ড্রোন তারা বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানান। তবে, বৃহস্পতিবার হুথি নেতা আবদেল মালেক আল হুথি মক্কাকে নিশানা করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সৌদি আরবের এ দাবিকে তিনি ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা