সুপ্রিম কোর্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট সীমিত করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছে। তিনি তারই নিয়োগ করা বিচারপতিদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কেনেডি সেন্টার সংস্কারের চেষ্টাও আদালতে আটকে গেছে। এখন তিনি সেটি বন্ধ করে দিতে চাইছেন। মঙ্গলবার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ইরান যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। সাতজন রিপাবলিকান তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনী বড় প্রস্তাব প্রতিটি আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের চেক ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকানদের সমর্থন না পাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্পিকার মাইক জনসন বুধবার আগেভাগেই আইনপ্রণেতাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন, যাতে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অভিশংসন ভোট এড়ানো যায়।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে। ট্রাম্পের মনোনীত চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বছর পর সুদের হার বাড়িয়েছে। ট্রাম্প মাসখানেক ধরে সুদ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এত ভালো চলছে যে সুদের হার ১ শতাংশ হওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্যপদ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প এটিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ পদক্ষেপ বলে শুল্কের হুমকি দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশ দখল করে নিয়েছে, যা জ্বালানি রপ্তানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প নিজের ক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে বড় বড় ঝুঁকিপূর্ণ বাজি ধরেছিলেন। এখন সেগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও ফাটল দেখা দিয়েছে। আইওয়ার কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান সিএনএনকে বলেছেন, ‘যেখানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত, সেখানে লড়বো। কিন্তু ইরান যুদ্ধসহ যেখানে দ্বিমত, সেখানে কথা বলব।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ৩০ শতাংশের ঘরে। একসময় তাকে অপ্রতিরোধ্য মনে হলেও এখন তার ক্ষমতার আভা ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কেবলটিভি বাছুন
—সিএনএনের প্রতিবেদনে অবলম্বনে