নিহত মারিয়া সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে এবং শাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বিষয়টি ১৩ জুন শিক্ষকদের মধ্যে জানাজানি হলে বিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ১৫ জুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা গ্রহণ করেন এবং তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেন। তবে ওই দিন মারিয়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল।
পরিবারের দাবি, ১৫ জুন মারিয়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কোনো সমাধান না হওয়ায় সিংগাইর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের পর থেকে পুলিশ তার সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
এদিকে রবিবার বিকেলে চন্দননগর কবরস্থানের পাশের নির্জন ঝোপঝাড়ে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও একটি খণ্ডিত অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেখানে মানুষের ভিড় জমে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।