এর আগে মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষে মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা গত বুধবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সেটি মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি বিএনপি। বরং শরীয়তপুরে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, গত রোববার সময় টিভির সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল মামলা করেছেন। পরদিন ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার সাংবাদিক ইসরাফিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত চলছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওই লিখিত অভিযোগ ও বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামানের করা চাঁদাবাজির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত
শরীয়তপুরের সাংবাদিকেরা জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক ইসরাফিল তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। পরদিন রোববার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদার ওই হামলায় জড়িত।
হামলার প্রতিবাদে এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন জেলার সাংবাদিকেরা। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং তাঁর প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। পরে তাঁরা পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়। এতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।