বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং দি নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করেও প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বগুড়া সদর থানা মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার জানান, তদন্তের স্বার্থে পরিচালিত অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রহমাতুল্লাহ মানিক বলেন, “মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি ইতোমধ্যে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদ প্রকাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানহানির অভিযোগ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলাটি এখন বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।