আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচড়া গ্রাম থেকে স্বজন ও এলাকাবাসীর বিদায় নিয়ে তিনি এ দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে সাধারণ গল্পের ছলে পায়ে হেঁটে হজ্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন দুলাল। এর পর থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। যাত্রাকালে তাঁর ব্যাগে ছিল পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, অল্প কিছু টাকা, শুকনো খাবার, পরিধেয় কাপড় এবং প্রতীকী হিসেবে এক টুকরো কাফনের সাদা কাপড়। যাত্রা শুরুর আগে তিনি স্বজন ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নেন।
পেশায় ভূমিহীন ও দিনমজুর দুলাল হোসেন জানান, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে ভিসা করানোর মতো টাকা তাঁর ছিল না। নিজের কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে কেবল পাসপোর্টটি তৈরি করতে পেরেছিলেন।
"টাকার অভাবে ভিসা করতে পারিনি। তবে মনে তীব্র ইচ্ছা ছিল, তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে বের হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন—আমাকে যেন একটা ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে আমি সুস্থভাবে পায়ে হেঁটে হজ্ব শেষ করে আবার দেশে ফিরে আসতে পারি।"
পাসপোর্ট ছাড়া বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া এভাবে পায়ে হেঁটে হজ্বে রওনা দেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে যেমন আবেগ ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। একজন সাধারণ দিনমজুরের এমন দুঃসাহসিক অথচ ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ এখন পুরো সিংড়া উপজেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।