এক পক্ষের নেতারা জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পার্বতীপুর শহরের ঢাকা মোড়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁদের অভিযোগ, এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের নেতৃত্বে একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম শাহ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও তাঁর কয়েকজন অনুসারীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয়ে কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, একই সময়ে পৃথক কর্মসূচি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বহিষ্কৃতদের কর্মসূচিতে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী অংশ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের পক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের পক্ষে বক্তব্য দেন আকরাম আলী মাস্টার।
তিনি বলেন, ঢাকা মোড়ে দুই পক্ষের একই স্থানে সমাবেশ করার বিষয়টি সঠিক নয়। রেজওয়ানুল হকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই কার্যালয়টি একসময় বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
আকরাম আলী মাস্টারের দাবি, পার্বতীপুর বিএনপির তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন ধরে এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের নেতৃত্বে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নেতা-কর্মী নবগঠিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি মেনে নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত ২১ জানুয়ারি এ জেড এম রেজওয়ানুল হককে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারী আরও ২২ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে পার্বতীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ১ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।