উপজেলার যশাই ও পাট্টা ইউনিয়নে আলাদা দুটি প্রকল্পের ১৪ কিলোমিটার খাল পূনঃখনন কাজে আর্থিভাবে উপকৃত হচ্ছেন ৭৭১ জন অতি দরিদ্র শ্রমিক। প্রকল্প এলাকায় কৃষি জমির পানি নিস্কাষনের জন্য খাল দুটি খনন করা হলেও, দীর্ঘদিন পূনঃখনন না করায়, ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার কারনে কৃষি জমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিলো। পূনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কাটিয়ে উর্বরতা বাড়বে কৃষি জমির, অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে কৃষক। ফলে উৎপাদন বাড়বে কৃষিতে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায়, খালের দুই পারে তাল গাছ, নারকেল গাছ, ও বিভিন্ন ফলের গাছ, বিশেষ করে তালগাছ রোপনের ফলে কমবে বজ্রপাত। গরমে কৃষক পাবে স্বস্তির ছায়া।
মঙ্গলবার (১৬ই জুন) যশাই ইউনিয়নের ঢেকিপাড়ায় খাল খনন সরজমিনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় খাল খননের ফলে অতি দরিদ্র পুরুষ ও মহিলারা প্রতিদিন কাজ করতে পারছেন এবং তারা রোজগারের ভালো একটা মাধ্যম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ চাঁদ আলী খাঁন বলেন এই খাল খননের ফলে কৃষক যেমন পাট ভেজানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে, তেমনি শুকনো মৌসুমেও সেচের জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরতা কমবে। তিনি আরও বলেন বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই এলাকা ছিল অবহেলিত সেই সময় কোন কাজকর্ম হয় নাই এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় ভবিষ্যতে আরো ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো ভালো কাজ হবে। তিনি বলেন লেবারদের টাকা ঠিক কত পরিশোধ করতে হবে কাজে ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। তিনি কাজের মান সম্পর্কে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাতুল হক বলেন,খাল খনন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচন ইশতেহারে অংশ এই কাজে কোন প্রকার, এই কাজে কোন প্রকার দুর্নীতি বরদাস করা হবে না। তিনি বলেন ইতিমধ্যে প্রকল্প দুটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে। এতে প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা দুর হয়ে কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি তাল বৃক্ষ রোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাত কমবে।
যশাই ইউনিয়নের ঢেকি পাড়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ও যশাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু খান বলেন , পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাতুল হক স্যার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসলাম হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের নিয়মিত পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি। আশা করি বাঁকি কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে
খনন কাজে অংশ গ্রহণকারী একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা হলে, নারী শ্রমিকেরা জানান, আমাদের এলাকায় এখন তেমন কোনো কাজ নেই। এই প্রকল্পে কাজ করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে আমরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছি। তবে পুরুষ শ্রমিকেরা জানান, বতর্মানে সবকিছুর দাম বৃদ্ধির কারনে ৫০০ টাকা মজুরিতে ৮ ঘন্টা কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন আমাদের এলাকায় তেমন কোনো কাজ না থাকায় আমরা উকৃত হচ্ছি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে মতে, পাট্টা ইউনিয়নের আঁধারকোটা খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় হবে ১ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৫ টাকা ও যশাই ইউনিয়নের ঢেঁকিপাড়া খালের ৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৭ টাকা।