আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী লাইলী বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, লাইলী বেগম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের প্রতিভা ও সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ করে তিনি গান গেয়ে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান শুনে সরকার মুগ্ধ হয়েছে এবং এমন প্রতিভাবান শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, লাইলী বেগমকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি আরও বড় পরিসরে নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি লোকগান ও বাউলগান পরিবেশনের ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন লাইলী বেগম। তার সুমধুর কণ্ঠ, সহজ-সরল পরিবেশনা এবং গ্রামীণ জীবনের আবহ ফুটিয়ে তোলা গান হাজারো দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, “আমার মতো গ্রামের একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে ডেকে এনে সম্মান জানানো হবে, এটা কখনও ভাবিনি। সরকারের এই সহযোগিতা আমাকে আরও ভালোভাবে গান গাইতে এবং সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা মনে করছেন, লাইলী বেগমের মতো মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেশের লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এ সময় লাইলি বেগম শ্যামা সংগীত সকলি তোমারি ইচ্ছাময়ী তারা তুমি গানটি পরিবেশন করেন।