আইনজীবী জানান, বেলা ১২টার দিকে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রেজাওয়ানুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ জুন রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল বোর্ডবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দ্য নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজাওয়ানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস এবং জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসানসহ মোট কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে মামলাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তার নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তার কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
একই বিবৃতিতে তিনি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সাংবাদিকদের ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মামলার বাদীও যেহেতু একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ, তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করতে হবে।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, ব্যক্তির সুনাম রক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে আলোচিত এ ঘটনাটি এখন বগুড়ার গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।