রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত তাজু শেখ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই-ধানাইড় গ্রামের মৃত আলিম শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গত (২৪ মার্চ) মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর তার স্বামীর সাথে রাগারাগি হয়। পরের দিন (২৫ এপ্রিল) সকালে তিনি পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর তাজু শেখ ওই গৃহবধুকে মোবাইল ফোনে তার অবস্থান জানতে চান। তিনি তার স্বামীর বাড়ি থেকে রাগ করে চলে এসেছেন ও গার্মেন্টসে চাকরির করবেন বলে জানান তাজুকে। বিষয়টি জেনে তাজু তাকে চাকরি পেতে নাগরিক সনদ লাগবে ও সেটি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন। ভুক্তভোগী তাজু শেখের বাড়িতে গেলে তাকে একটি কক্ষে বসতে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওই গৃহবধুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই গৃহবধুর হাতে একটি নাগরিক সনদ ও ৫শ টাকা দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেন।
এরপর ওই নারী চাকরির আশায় ঢাকার সাভারে চলে গেলেও সেখানে কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি৷ চাকরি না পেয়ে তিনি গত (৬ এপ্রিল) সোমবার বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার স্বামী ও আত্মীয় স্বজনদের জানালে পরিবারের সহোযোগিতায় গত (৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় হাজির হয়ে অভিযুক্ত তাজু শেখকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে ওইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে তাজু শেখকে গ্রেফতার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ। পরেরদিন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠান।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধু নিজেই বাদী হয়ে তাজু শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।###