শনিবার (২৭ জুন) গভীর রাতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নওগাঁ শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর থানার আওতায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি প্রতারণার ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায় শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় ৭০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমকে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়। পরে তার গলায় থাকা সোনার চেইন, কানের দুল এবং নগদ ৫ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। অচেতন অবস্থায় তাকে ডিগ্রীর মোড় এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ২৫ জুন তিনি মারা যান।
এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় আরেক বয়স্ক দম্পতিকে সোনার বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ও রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে সম্মোহিত করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৬ আনা ওজনের একজোড়া সোনার কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনা দুটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
অভিযানে মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু, মো. কালাম এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বয়স্ক দম্পতির কাছ থেকে সোনা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং জানায়, তাদের চক্রে আরও ২ থেকে ৩ জন সদস্য জড়িত রয়েছে।
আসামি এরশাদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারের ‘মুহিদ জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করে। তিনি চোরাই সোনা কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জানান, ছিনতাই করা কানের দুল ইতোমধ্যে গলিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে ৪ আনা ওজনের গলানো সোনা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এর আগেও চোরাই সোনা কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম ঘটনায় জড়িত বাকি অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।