সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা বাগেরহাট জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্টটি নতুন করে চালুর জন্য সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।
জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জানান, বাগেরহাট জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোনো অনুদানও গ্রহণ করেনি।
সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকায় ১৯৯৪ সালে স্থানীয় কিছু উদ্যোগী ও দানশীল ব্যক্তির জমি দানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ৩ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ ট্রাস্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন। পরবর্তীতে দান-অনুদানের অর্থে সেখানে হোস্টেল ভবন, প্রশিক্ষণ ভবন, অফিস ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি একসময় এতিম ও দুস্থ শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পরিচালিত হলেও ২০০৯ সালের পর রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সংসদে জানানো হয়, সরকারি সহায়তা এবং ভবনগুলোর পুনর্নির্মাণ সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংসদে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।