রাঙা মিয়ার জামাতা নিউইয়র্ক প্রবাসী মো. মুক্তার হোসেন জানান, গত ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টার দিকে রাঙা মিয়া ব্রেইন স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হন। দ্রুত তাকে নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১ টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর হাসপাতাল থেকে মরদেহটি পরিবারের সদস্যরা গ্রহণ করে জামাইকা মুসলিম সেন্টারের হিমঘরে রেখেছেন। তিনি আরও জানান, মরদেহটি শনিবার দুপুর ২ টার সময় (নিউইয়র্ক সময়) নিউইয়র্ক থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে।
রাঙা মিয়ার শ্যালক মো. মজিবর রহমান জানান, তার দুলাভাই রাঙা মিয়া সস্ত্রীক ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে তার মেয়ে জামাইয়ের সাথে বসবাস করতেন। আগামী জুন মাসের ১০ তারিখে তার দেশে আসার কথা ছিলো। সে মোতাবেক তিনি স্ট্রোক করার কিছুক্ষণ আগে বিমানের টিকিটও কেটেছিলেন। তিনি দেশে আসার পর পরবর্তীতে আর আমেরিকাতে যাবেন না বলে পরিবারের সদস্যদেরকে জানিয়েছিলেন। বাকী জীবন তিনি উথলী গ্রামে নিজ বাড়িতেই কাটাতে চেয়েছিলেন।
রাঙা মিয়ার ভাতিজা আব্দুল মান্নান পিল্টু জানান, তার চাচা রাঙা মিয়া প্রথম জীবনে ইউনাইটেড পিপলস পার্টিতে (ইউপিপি) যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি ওই পার্টির সাথেই যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি মওলানা ভাসানী ন্যাপে (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি) যোগ দেন। তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্ক বাঁধ দেওয়ার প্রতিবাদে লংমার্চে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরের হাত ধরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। উথলী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আবুল হাসান খাঁন রাঙা মিয়া আশির দশকে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এলাকায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গাসহ আসপাশের জেলাগুলোতে বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম ছিলো। আবুল হাসান খাঁন রাঙা মিয়া চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সদস্য, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি, উথলী মানবসেবা সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টাসহ রাজনৈতিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
তিনি যেকোনো জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান ও বিচারকার্য পরিচালনায় বেশ পারদর্শী ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।