স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গম কাটার আগ মুহূর্তে জমির খড় পরিষ্কার করতে আগুন দেন হাড়িয়াদহ গ্রামের কৃষক ওসমান আলী। কিন্তু হঠাৎ দমকা হাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশাল এলাকা জুড়ে পাকা গম জ্বলতে থাকে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কৃষকদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাসানুজ্জামান খান বলেন, আমার আড়াই বিঘা জমিতে গম ছিল। দুই একদিনের মধ্যেই কেটে বাড়িতে বাড়িতে নিয়ে আসবো। কিন্তু আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল। গম ঘরে তোলা আর হলো না। এখন আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
আরেক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, আমার ২৬ কাঠা জমিতে গম ছিল।আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে আমরা কিছুই বাঁচাতে পারিনি। চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না।
আরেক কৃষক দিনারুল ইসলাম জানান, আমার ৩২ কাঠা জমিতে গম ছিল।প্রথমে স্থানীয় কৃষকরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকার গমক্ষেত পুড়ে যায়।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আমাদের একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খড় পোড়ানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে জমি পরিষ্কার করার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই ঘটনায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।