বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে গিয়ে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি জানতে পারেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গঞ্জের আলী। তিনি জানান, তার সেচ স্কিমের আওতায় থাকা একাধিক কৃষক এখন চরম দুর্ভোগে পড়বেন। বর্তমানে আমন মৌসুমের ধানের বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। এ সময় নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় ট্রান্সফরমার না থাকলে বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
গঞ্জের আলী বলেন, অনেক টাকা খরচ করে ট্রান্সফরমার কিনে বসিয়েছিলাম। চুরির আশঙ্কায় মোটা লোহার রড দিয়ে ঝালাই করে সুরক্ষিত করেছিলাম। কিন্তু চোরেরা সেই রড কেটে ট্রান্সফরমার নিয়ে গেছে। আবার নতুন ট্রান্সফরমার লাগালেও সেটি চুরি হবে না—এ নিশ্চয়তা কে দেবে? এভাবে চলতে থাকলে মাঠে ফসল চাষ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সেচের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাদ্দিস মোরশেদ জানান, মটমুড়া গ্রামের কৃষক গঞ্জের আলীর একটি ট্রান্সফরমার বুধবার রাতে চুরি হয়েছে। একই সময়ে কৃষক মহিবুল ইসলামের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা চালানো হলে সেচ পাম্পের মালিক ঘটনাস্থলে চলে আসায় চোরেরা সেটি ফেলে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ট্রান্সফরমার চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।