মীরসরাই থানা পুলিশ ও রিলাক্স জোন আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার সোহান আহমেদ জানান, রোববার (৯আগস্ট) দুপুর ২টায় ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্ত্রী সন্তাসসহ তিনি একদিনের জন্য হোটেলের ১০৪ নন্বর কক্ষে উঠেন। সর্বশেষ রাত ১০টায় আমিনুল ইসলাম হোটেল থেকে বের হয়ে বাহির থেকে রাতের খাবার নিয়ে আসেন। তাকে এসময় স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। সোমবার সকাল ১১ টায় তিনি (ম্যানেজার) হোটেল কক্ষের দরজায় গিয়ে দরজা খুলতে বললে অনেকক্ষন পর ভেতর থেকে আহত স্ত্রী তাহমিনা দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতে দেখেন আমিনুল ইসলাম ফ্যানের সাথে ঝুলছে। খাটের নিচে আহত স্ত্রী তাহমিনা ও শিশু সন্তান ফাতিহা পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত আমিনুলের শ্যালক শাহরিয়ার ইফাস জানান, তাদের বাড়ি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাজ্বিশরাই গ্রামের। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তার বোনের সাথে আমিনুলের সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন শশুর বাড়িতে থাকলেও গত প্রায় এক বছর পারিবারিক কলহের কারণে সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা তাদের বাড়িতে ছিল। মাঝে মধ্যে আমিনুল তাদের বাড়িতে যেত। রোববার সকালে তার মা আমেনা বেগম মেয়ে তাহমিনা ও নাতনীকে নিয়ে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পরিষদে নাতনী ফাতিহার জম্ম নিবন্ধন তৈরী করতে এসেছিলেন। এসময় তাহমিনার স্বামী আমিনুলও এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের কাজ শেষে তাহমিনাকে তার মা নিয়ে যেতে চাইলে স্বামী আমিনুল ইসলাম নিজেরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবেন বলে জোরপূর্বক রেখে দেয়। এরপর সোমবার দুপুরের দিকে মীরসরাই থানা পুলিশ থেকে ফোন পেয়ে বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন আবাসিক হোটেলে এসে দেখে এ দুর্ঘটনা।
নিহত আমিনুল ইসলামের বড় ভাই মোঃ হাসান জানান, আমিনুল ইসলাম রাঙ্গামাটিতে পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত ছিল। পারিবারিক ভাবে ছোটখাট বিরোধের কারণে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকত। বেরাববার ছুটি নিয়ে সে বাড়িতে আসার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে খবর পেয়ে তারা বড়তাকিয়া রিলাক্স আবাসিক হোটেলে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিতিৎসক মেহের নিগার জানান, তাহমিনা আক্তার নামে একজনকে সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তারমুখ ফুলা, নাক দিয়ে রক্ত পড়ার লক্ষণ ছিল, গলায় কিছু প্যাঁচানো দাগ ছিল এবং মুখ বাঁকা ছিল। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মীরসরাই সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদের ঘটনায় এমনটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।