শফিউল ইসলাম নীরব, শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে। সম্প্রতি তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান তিনি।
নীরবের এমন পরিস্থিতির খবর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার খোঁজখবর নেন এবং সাক্ষাতের জন্য ডেকে পাঠান।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নীরবের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার পড়াশোনার প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনেরও আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন শুধুমাত্র অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগই দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করে এবং একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণ মানেই জাতির সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়া।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত নীরব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে স্বপ্নটা ভেঙে যেতে বসেছিল। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি। এখন নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই এবং একদিন দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু নীরবের শিক্ষাজীবনের পথই সুগম করেনি, বরং সমাজে এই বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে—মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। একজন শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব কেবল উন্নয়ন প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের স্বপ্ন রক্ষার মধ্যেও তার প্রকৃত মূল্য নিহিত।