মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাড়তি দামে তেল কিনতে গিয়ে বিপিসিকে প্রতি মাসে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছিল এবং সেই লোকসান সামাল দিতেই বাধ্য হয়ে সরকারকে এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যসামগ্রীর দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে। এই নতুন মূল্য কাঠামোর কারণে জনগণকে শুধু জ্বালানি তেল কিনতেই প্রতি মাসে আগের চেয়ে অতিরিক্ত ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
উল্লেখ্য, দেশে একলাফে এত বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে তৎকালীন সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে ব্যাপক জনরোষের মুখে ডিজেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়। বর্তমান সরকার প্রথম দফায় গত ১৮ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ১৬.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পর এবার দ্বিতীয় দফায় এই মূল্যবৃদ্ধি করল।