কয়েক বছর আগে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি নাম উল্লেখ না করে দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে সরব হওয়া থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পিটিশন—বিভিন্ন সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঋতাভরী।
এতদিন কেন নীরব ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, এখন তার অবস্থান অনেক শক্ত। তার ভাষায়, ‘আজ আমার জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে, কেউ যদি এখন আমার গায়ে হাত দেয় বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে, তবে তাদের মাঝরাস্তায় উলঙ্গ করে দাঁড় করাব।’
সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন ঋতাভরী। তার দাবি, পূর্ব ভারতের অভিনেত্রীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
নতুন অভিনেত্রী হিসেবে তখন ভয় কাজ করত জানিয়ে ঋতাভরী বলেন, অভিযোগ করলে মানুষ হয়তো তাকেই ভুল বুঝবে। এমনও মনে হতে পারে, কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। এই আশঙ্কায় দীর্ঘদিন অনেক কিছু নীরবে সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
তবে সেই সময়ের ঘটনাগুলোর কোনো প্রমাণ নষ্ট করেননি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, আপত্তিকর বার্তা ও অন্যান্য প্রমাণ তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। যদিও সামাজিক মাধ্যমকে ‘ট্রায়াল গ্রাউন্ড’ বা কুৎসা ছড়ানোর জায়গা বানাতে চান না তিনি। বরং আইনি ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই লড়াই চালিয়ে যেতে চান।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন ঋতাভরী। কেরালার আলোচিত ‘হেমা কমিটি’ প্রতিবেদনের আদলে বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পেও কাঠামোগত উদ্যোগের দাবি তুলেছিলেন তিনি। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে সরাসরি বৈঠক করেন অভিনেত্রী।
ঋতাভরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে বিচারপতি, পুলিশ, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এই কমিটির মাধ্যমে টলিউডে নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরির কথা ছিল।
বর্তমান সরকারের কাছেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঋতাভরী। তার অবস্থান স্পষ্ট—সঠিক বিচার ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই লড়াই থামাবেন না তিনি।
২০০৯ সালের ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ মেগার মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিতি পাওয়া ঋতাভরী বর্তমানে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ। ‘বহুরূপী’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ও ‘ফাটাফাটি’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। অনুষ্কা শর্মার ‘পরী’ এবং কল্কি কেঁকলার অভিনীত ‘নেকেড’-এর মতো কাজেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে ঋতাভরী বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবেও পরিচিত।
সূত্র: এনডিটিভি