গ্রেফতার নাসরিন আক্তার বেতবাড়ীয়া গ্রামের অভিযুক্ত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রথম স্ত্রী।
গাংনী থানা সুত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়িতে ইয়াবা বিক্রির সময় পুলিশের একটি অভিযান দল নাসরিন আক্তারকে ১২৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। একইসাথে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার ৭৬৬ টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আজ সোমবার দুপুরে নাসরিন আক্তারকে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করেছে গাংনী থানা পুলিশ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গাংনী থানা পুলিশের একটি দল গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বেতবাড়ীয়া গ্রামে অভিযুক্ত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। নিজ ঘরে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সময় জাহাঙ্গীরকে আটক করে পুলিশ। ওই বাড়িতে আইনী কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশ কিছু সময় অবস্থান করে। এর মধ্যে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীর হোসেন। শ্বাস কষ্ট হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন পুলিশের অভিযান টিমের সদস্যরা।
এদিকে জাহাঙ্গীর অসুস্থ হওয়ায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতারের আবদার করে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন তিনি ইয়াবার টাকা খান না। এজন্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবেন না। দ্বিতীয় স্ত্রী সম্মত না হওয়ায় প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে গাংনী থানায় ফেরে পুলিশ।
অভিযান শেষ করে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করেন জাহাঙ্গীর। আজ সোমবার সারাদিন তাকে মোটরসাইকেল ঘুরতে দেখেছেন অনেকে। একজন মাদক কারবারির বদলে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখানো কতটা আইন সম্মত তা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযানের সময় একই ঘরে জাহাঙ্গীর ও তার প্রথম স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় কোন আসামি কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে পুলিশ হেফাজতে তার চিকিৎসা করতে হবে। সুস্থ হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু অভিযুক্ত কেন মাদক কারবারিকে অসুস্থতাজনিত কারণে ছেড়ে দিয়ে তার জায়গায় তার স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখানো কতটা বেআইনী এবং ন্যাক্কারজনক ঘটনা তা নিয়ে এলাকায় চলছে ক্ষোভ।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি অভিযান টিমের প্রধান গাংনী থানার এসআই শিমুলকে।
মাদক কারবারিকে ছেড়ে দিয়ে তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের বিষয়ে মেহেরপুর অতিক্তির পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম বলেন, স্বামী স্ত্রী হয়তো দুজনেই মাদক কারবারি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।