গত মাসে উত্তর লন্ডনের হার্লেসডেনে একটি সক্রিয় পুলিশি ঘটনার এলাকায় ওয়েমোর একটি গাড়ি ঢুকে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়ে। এরপর লন্ডনে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশনও চালু হয়েছে।
গুগলের মালিকানাধীন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের অংশ ওয়েমোর দাবি, তাদের এআইচালিত প্রযুক্তি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সহায়তা করবে এবং পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়াবে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িগুলো চারপাশের পরিবেশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং হঠাৎ কোনো পথচারী সামনে চলে এলেও দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
ওয়েমোর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোল গ্যাভেল বলেন, তাদের লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চালক তৈরি করা। তার মতে, চালকবিহীন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে ওয়েমোর প্রায় এক হাজার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় সাতশ গাড়ি চলাচল করছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের অন্য শহরেও সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
তবে এই সেবার ভাড়া সাধারণ উবার বা লন্ডনের ব্ল্যাক ক্যাবের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। ওয়েমো মনে করছে, বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নারী যাত্রী ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া মানুষ এই সেবার প্রতি আগ্রহী হতে পারেন।
এদিকে উবারও লন্ডনে রোবোট্যাক্সির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। ওয়েমোর কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাজ্যের জটিল সড়কব্যবস্থা, ব্যস্ত ট্রাফিক এবং বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের প্রযুক্তির রয়েছে।
তবে সমালোচকদের অনেকেই এখনো আশ্বস্ত নন। লাইসেন্সধারী ট্যাক্সিচালকদের সংগঠন এলটিডিএর সাধারণ সম্পাদক স্টিভ ম্যাকনামারা প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ আসলেই চালকবিহীন গাড়ির ওপর কতটা ভরসা করবে।
অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন জিএমবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চালকবিহীন গাড়ির কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব পড়তে পারে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।