অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে আগে তাদের যে নির্দিষ্ট হারে সুদ গুনতে হতো, সেটি আর পরিশোধ করতে হবে না। তবে এই সুবিধা পেতে হলে গ্রহীতাদেরকে তাদের খেলাপি ঋণের অর্থ আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ইতোমধ্যেই দেশটির সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কর্মকর্তারা মনে করেন, বিশেষ এই সুবিধা দেওয়ার ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ আদায় করতে সক্ষম হবে।
নির্দেশনায় কী আছে?
সুদ মওকুফের সুবিধা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে গত সোমবার। এতে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় দেওয়া এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংকগুলোর তারল্য ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অনাদায়ী ঋণের অর্থ দ্রুত ব্যাংকে ফেরত আনতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সুবিধা কারা পাবেন?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতারাই সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন। সাধারণত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ঋণ পরিশোধ করা না হলে ব্যাংক সেটিকে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
এর মধ্যে কোনো ঋণের কিস্তি বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় এক বছর বা তার বেশি অতিক্রান্ত হলে সেটা ‘মন্দ বা ক্ষতিজনক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ থাকে। ৩০ জুনের আগে যারা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, তারাই কেবল সুদ মওকুফের সুবিধা নিতে পারবেন।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে এবং ঋণগ্রহীতার আর্থিক সংকট, ঋণ পরিশোধে আন্তরিকতা ও অতীতের লেনদেনের রেকর্ড যাচাই করা হবে।
তবে সুবিধা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো ঋণগ্রহীতাকে তার অতীতের সকল ঋণ বা আর্থিক দায় একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে। আর সেটি নিশ্চিত করতে পারলে ঋণগ্রহীতার ওপর থেকে সব ধরনের আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে।
ফলে তাকে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড বা তহবিল ব্যয়ও দিতে হবে না। তহবিল ব্যয় হচ্ছে একটি ব্যাংকের সেই ব্যয়, যা ঋণ দেওয়ার জন্য সংগৃহীত অর্থের বিপরীতে খরচ হয়।
নতুন নির্দেশনায় ২০২২ সালের কিছু শর্ত শিথিল করায় সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংক এ সুবিধা দিতে পারবে। কৃষক থেকে শিল্পপতি—সব ধরনের যোগ্য ঋণগ্রহীতা সমানভাবে এ সুবিধা পাবেন, তবে কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৯ জুন জারি করা নতুন নির্দেশনায় শর্ত দু’টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন তাদের ঋণ খেলাপিদের সুদ মওকুফের সুবিধা দিতে পারবে।
সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন সব বকেয়া ঋণ ও আর্থিক দায় পরিশোধ করতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আরোপিত ও অনারোপিত সব সুদের পাশাপাশি তহবিল ব্যয়ও মওকুফ করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘এক্ষেত্রে কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত সবার জন্যই সমান সুযোগ থাকবে। ঋণ ৫০ হাজার নাকি ৫০ কোটি টাকার, সেটার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য হবে না। বরং কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্পের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এই সুবিধা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’