নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মিটিং ফি, ট্রেনিং ফি ও সম্মানী বাবদ প্রদেয় অর্থের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নতুন তালিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
সম্মানী ও ট্রেনিং ফিতে সর্বোচ্চ কর
নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে মিটিং ফি, প্রশিক্ষণ ফি কিংবা সম্মানী পরিশোধের সময় বিলের ২০ শতাংশ উৎসে কর হিসেবে কেটে রাখা হবে। ফলে বিভিন্ন বোর্ড সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রাপ্ত অর্থ থেকে আগের তুলনায় বেশি কর কর্তন হবে।
পরামর্শক ও পেশাজীবীদের জন্য নতুন হার
উপদেষ্টা বা পরামর্শক ফি এবং পেশাদার সেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। তবে কোনো কোম্পানি বা অন্য প্রাতিষ্ঠানিক সত্তা এ ধরনের সেবা দিলে করের হার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
কারিগরি সেবা বা কারিগরি সহায়তা ফি গ্রহণকারী ব্যক্তি হলে উৎসে কর কর্তন হবে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ক্ষেত্রে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ।
ক্যাটারিং ও ইভেন্ট সেবায় ৮ শতাংশ কর
ক্যাটারিং, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া, জনসংযোগ, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা পরিচালনা, কুরিয়ার সেবা, প্যাকিং ও শিফটিং, রিকভারি এজেন্সি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি সেবার মোট বিলের ওপর ৮ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে।
এ ছাড়া ইভেন্টিং কমিশনের ওপর করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
অন্যান্য সেবায় করের হার
নতুন সারণি অনুযায়ী-
ক্লিনিং, নিরাপত্তা ও জনবল সরবরাহ সেবায় কমিশনের ওপর ১০ শতাংশ এবং মোট বিলের ওপর ১ শতাংশ কর কাটা হবে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সেবা বিলের ওপর কর হবে ১০ শতাংশ।
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির বিলের ওপর কর হবে ১০ শতাংশ।
মোটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপের বিলের ওপর কর হবে ৫ শতাংশ।
ব্যক্তিগত কনটেইনার পোর্ট বা ডকইয়ার্ডের বিলের ওপর কর হবে ৫ শতাংশ।
শিপিং এজেন্সির কমিশনের ওপর কর হবে ১০ শতাংশ।
নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশোধিত উৎসে করের হার কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন হার অনুযায়ী বিল পরিশোধ ও কর কর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিধান কার্যকর হলে বিভিন্ন সেবা খাতে কর আদায় বাড়বে এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত হবে।