নিহত উমা চন্দ্র উপজেলার চকরাধিকা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত কালিদাসের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি লাঠিগঞ্জ বাজারে নিজের পানের দোকানেই রাত কাটাতেন—সেই দোকানই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঝড়ের হঠাৎ আঘাত, মুহূর্তেই বিপর্যয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ করেই গাবতলী অঞ্চলে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। দমকা হাওয়া ও ঝড়ের তাণ্ডবে বাজারসংলগ্ন একটি পুরোনো বটগাছ উপড়ে গিয়ে সরাসরি উমা চন্দ্রের দোকানের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই দোকানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা উমা চন্দ্র গাছের নিচে চাপা পড়েন।
উদ্ধার অভিযান কিন্তু বাঁচানো গেল না
ঘটনার খবর পেয়ে গাবতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর গাছের বিশাল কাণ্ড সরিয়ে উমা চন্দ্রকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হাসান জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
প্রকৃতির রুদ্ররূপ ও মানবিক শোক
কালবৈশাখী ঝড়—যা সাধারণত গ্রীষ্মের স্বস্তি এনে দেয়—সেই ঝড়ই এবার কেড়ে নিল এক শ্রমজীবী মানুষের প্রাণ। স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা বলছেন, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো সময়মতো অপসারণ করা হলে হয়তো এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঝড়প্রবণ মৌসুমে বাজার ও জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
একটি ঝড়, একটি গাছ, আর এক জীবনের অবসান—লাঠিগঞ্জ বাজার আজ যেন নীরব সাক্ষী এক নির্মম বাস্তবতার।