সরকারি নির্দেশনামতে, প্রায় ২০ ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ডিডব্লিউপি-কে তাৎক্ষণিক অবহিত করতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নতুন চাকরি পাওয়া বা হারানো, নতুন মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন, নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর, এবং বাসাভাড়া বাড়া বা কমা। এ ছাড়া পারিবারিক অবস্থার পরিবর্তন যেমন সন্তান জন্ম নেওয়া, সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করা, অথবা ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী সন্তানের পড়াশোনার স্থিতি পরিবর্তনের বিষয়টিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিডব্লিউপি স্পষ্ট করেছে যে, এই পরিবর্তনগুলো পুরো ‘অ্যাসেসমেন্ট পিরিয়ডে’র পেমেন্টের ওপর প্রভাব ফেলে, তাই তথ্য জানাতে দেরি করলে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ডিডব্লিউপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকরা তাদের ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের অনলাইন অ্যাকাউন্টে লগইন করে সহজেই এই পরিবর্তনগুলো রিপোর্ট করতে পারেন। বিশেষ করে যারা স্ব-নিযুক্ত (Self-employed), তাদের মাসিক আয়ের হিসাব নিজেদেরই প্রদান করতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ চাকরিজীবীদের আয়ের তথ্য সাধারণত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিডব্লিউপি-র কাছে পৌঁছায়। তবে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার উন্নতি বা অবনতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো গ্রাহককেই রিপোর্ট করতে হবে। ভুল তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করলে তা পরবর্তী পেমেন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে বা এককালীন ফেরত দিতে হবে।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই নির্দেশনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, নিয়মগুলো না জানার কারণে অজান্তেই অনেকে অতিরিক্ত অর্থ পেয়ে যান, যা পরে ফেরত দিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন বা ফ্রিল্যান্সিং করছেন, তাদের জন্য এই নিয়মগুলো বেশ জটিল মনে হতে পারে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, সরকার যদি কমিউনিটিভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং নির্দেশিকাগুলো আরও সহজ ভাষায় প্রচার করে, তবে ভুল হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস মিলিয়ে প্রায় ৮.৩ মিলিয়ন মানুষ ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের আওতায় সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছেন। সাধারণত মাসে একবার এই ভাতা প্রদান করা হলেও স্কটল্যান্ডে কিছু ক্ষেত্রে পাক্ষিকভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হয়। ডিডব্লিউপি পরামর্শ দিয়েছে যে, আয়ের পরিবর্তন ভাতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত হতে গ্রাহকরা যেন নিয়মিত 'বেনিফিটস ক্যালকুলেটর' ব্যবহার করেন অথবা তাদের জন্য নির্ধারিত 'ওয়ার্ক কোচ'-এর সঙ্গে পরামর্শ করেন।