যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে বেকারত্বের হার প্রত্যাশার চেয়ে ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত তিন মাসে বেকারত্বের হার কমে ৪.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী মেয়াদে ছিল ৫.২ শতাংশ। গত এক বছরে বেকারত্ব কমার এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও পরিসংখ্যানের গভীরে লুকিয়ে আছে ভিন্ন চিত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্ব কমার এই গতি ক্রমান্বয়ে ধীর হয়ে আসছে, যা শ্রমবাজারের আগামী দিনগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের সুযোগ বা চাকরির শূন্য পদের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। যেখানে আগে ৭ লক্ষ ২১ হাজার শূন্য পদ ছিল, তা বর্তমানে কমে ৭ লক্ষ ১১ হাজারে নেমে এসেছে। নিয়োগকর্তাদের মধ্যে নতুন কর্মী নেওয়ার আগ্রহ কমে আসাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে নিয়োগের হার চড়া থাকলেও বর্তমানে বাড়তি পরিচালন ব্যয় এবং কর্মী চাহিদার নিম্নমুখিতার কারণে বড় ধরনের স্থবিরতা আসতে পারে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এখনো যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিচ্ছে আরও উদ্বেগজনক বার্তা।
অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা 'ইওয়াই আইটেম ক্লাব' ধারণা করছে, ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বেকারত্বের হার বেড়ে ৫.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্য হয়, তবে দেশটিতে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ নতুন করে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের এই দ্বিমুখী সংকটে শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শ্রমবাজারের দুর্বল হয়ে আসার ইঙ্গিত পাওয়ায় ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড তাদের সুদের হার ৩.৭৫ শতাংশে স্থির রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাজ্যের নিয়োগ বাজারে তার নেতিবাচক প্রতিফলন এড়ানো কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।