ফ্যামিলি রিসোর্স সার্ভে-এর তথ্যানুয়ায়ী, প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত হওয়া এই শিশুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই সামাজিক ও আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত। বিশেষ করে অটিজম, এডিএইচডি (ADHD) এবং ওডিডি (ODD)-এর মতো সমস্যাগুলো শনাক্তের হার বর্তমানে গত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা মহামারীর পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের আসক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকট এখন ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি (OBR)-এর হিসাব মতে, বর্তমানে শিশু প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বার্ষিক ৫.৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে এই ব্যয়ের পরিমাণ ৮.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র গত এক বছরেই আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড।
সামগ্রিকভাবে, ব্রিটেনে বর্তমানে প্রায় ১.৬৭ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা দেশটির সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আচরণগত সমস্যার মূল উৎপাটন করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।