এএফপি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগে শহরের যে কোনো স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হলে পুরো শহরজুড়ে সাইরেন বাজত এবং বাসিন্দাদের বহুবার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হতো। এখন সতর্কতা ব্যবস্থা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
৩২ বছর বয়সী সারা শেমলা জানান, “আগে প্রতিটি সতর্কতা পুরো শহরের জন্য প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু এখন তা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত। শিশুদের আর রাত জেগে সতর্ক করতে হয় না।”
ইসরায়েলের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এআই বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কতা দেয়, যেমন ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ, উৎক্ষেপণের কোণ, আবহাওয়া এবং রাডার সংকেত। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেন, “এআই লক্ষ লক্ষ ডেটা বিশ্লেষণ করে কৌশলগত পরিকল্পনা এবং পূর্বাভাসে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।”
২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে ২৫টি সতর্কতা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। এখন সংখ্যা বেড়ে ১,৭০০ সতর্কতা অঞ্চল, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মানুষকে আশ্রয় নিতে না হয়।
সাইরেন, ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম এবং স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে এই সতর্কতা কার্যকর করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ৪০ লাখ ফোনে ব্যবহার করা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবস্থানভিত্তিক সতর্কতা এবং বিপদ কেটে গেলে বার্তা পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট এলাকার সব মোবাইল ফোনে একসঙ্গে সতর্কতা পাঠাতে সক্ষম।
সারা শেমলার মতে, সতর্কতা ব্যবস্থার এই উন্নয়ন জীবনরক্ষাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করছে।