গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কলম্বিয়ার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও মাদক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে, ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বাইরে থাকা দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়ও উল্লেখ করেছে তারা।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়গুলোও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কলম্বিয়ার সরকার।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা গত ৭ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন এনেছেন।
এর আগে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকার ২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। তবে, নতুন সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আবারও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেন দে লা এসপ্রিয়েলা।
একই সঙ্গে, দুই পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়। পরে, জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস খোলার পরিকল্পনার কথাও জানায় কলম্বিয়া।
এর আগে, আগস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা'আর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে, কলম্বিয়ার দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পরে সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকেও স্বীকৃতি দেয় কলম্বিয়ার নতুন সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের সঙ্গে কলম্বিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি