বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সবসময় সুরক্ষিত থাকা উচিত এবং এগুলোকে কখনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। হামলার ফলে ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই সংঘাত কেবল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান শহরের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড হোসাইনিয়া মসজিদ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবনের গম্বুজ ও মিনারের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ২৯টি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে অন্তত চারটি স্থাপনা ইতিমধ্যে যুদ্ধের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানের গোলেস্তান প্যালেস, ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্যালেস, মাসজেদ-ই জামে মসজিদ এবং খোররামাবাদ উপত্যকার প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তেহরান সিটি কাউন্সিলের ঐতিহ্য কমিটির প্রধান আহমদ আলাভি জানান, দেশের অন্তত ১২০টি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুধু স্থাপনা নয়, সাধারণ মানুষের জীবনও বিপর্যস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাবে শজারেহ তাইয়্যেবাহ স্কুলে হামলায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তেহরান থেকে প্রায় এক লাখ এবং লেবানন থেকে ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি লজিস্টিক হাব বন্ধ থাকার কারণে হরমুজ প্রণালী ও আকাশসীমার অস্থিতিশীলতার কারণে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পোলিও নির্মূল কার্যক্রম এবং গাজার জন্য নির্ধারিত ৬০ লাখ ডলারের ওষুধ সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যদি লক্ষ্যবস্তু হয়, তার ফল ভয়াবহ হবে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান