পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আশা করছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসতে পারে। এই আশাবাদ এমন সময় সামনে এসেছে যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই সফরের ফলে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা এবং চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে মৌলিক মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান উভয়ই ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত হতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনা ইসলামাবাদে হতে পারে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গঠনমূলকভাবে অব্যাহত রয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরাও চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বলে জানানো হয়।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরান জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে কিছু বার্তা আদান–প্রদান হয়েছে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশায় ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এশিয়া ও ওয়াল স্ট্রিট উভয় বাজারেই সূচক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
তবে পারমাণবিক ইস্যুই এখনো আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও তেহরান সীমিত সময়ের বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো দূরত্বে থাকলেও মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, আলোচনার পরিবেশ আগের চেয়ে ইতিবাচক। হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।