হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথে প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল পরিবাহিত হয়।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলোতে জাহাজের বাধাহীন চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করে, যাকে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ বলা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সাধারণত বাধা দেওয়া বা শর্ত আরোপ করা যায় না।
একই সঙ্গে কোনো দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় ‘নিরীহ চলাচল’ (ইনোসেন্ট প্যাসেজ) স্বীকৃত, অর্থাৎ শান্তি, নিরাপত্তা বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়—এমন জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া যায় না।
তবে আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রায় ১৭০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন UNCLOS-এ স্বাক্ষর করলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এটি অনুমোদন করেনি। ইরানের দাবি, তারা যেহেতু চুক্তির পক্ষভুক্ত নয়, তাই এর বিধান তাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, এসব বিধান এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনে পরিণত হয়েছে, যা সবার জন্য প্রযোজ্য।
এদিকে ইরানের টোল আদায়ের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশ একতরফাভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপ করলে তা বিরোধ ও কূটনৈতিক সংঘাত বাড়াতে পারে।
আইনগতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, তাদের রায় কার্যকর করার জন্য সরাসরি কোনো শক্তিশালী বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই।
তবে বাস্তবে কয়েকটি বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—যেমন একাধিক দেশের যৌথ অবস্থান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব, বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে টোল ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক আইন, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির জটিল এক সংকট হিসেবে সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া