বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনির্ধারিত আলোচনায় হুইপ দুলু বলেন, “আজ একাধিক জাতীয় দৈনিকে ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বনানী থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়, সদর দফতরে রাখা হয় এবং ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় যে অপরাধ হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।”
দুলু আরও বলেন, “ইলিয়াস আলী আপনার (স্পিকারের) সহকর্মী ছিলেন, আমার বন্ধু ছিলেন। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িত। ১৭ মার্চ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ইলিয়াসকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
হুইপ দুলু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমার প্রশ্ন হলো, মানুষ কতটুকু নিষ্ঠুর হলে এই কাজটা করতে পারে? আমার মনে হয় পৃথিবীর ইতিহাস এখানে ফেলবে। কারণ শেখ হাসিনা যে কী ধরনের অভিনেত্রী ছিলেন, তার নির্দেশ ছাড়া এই ঘটনা ঘটেনি।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক। এটি সারা দেশের বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য (তাহসিনা রুশদীর লুনা) এখানে উপস্থিত রয়েছেন, তিনিও বিষয়টি সংসদে একবার উত্থাপন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তাহসিনা রুশদীরকে অনুরোধ জানাবো— আপনি যদি এই ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিতে চান, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত নোটিশ দিতে পারেন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যেই সমসাময়িক ঘটনার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
স্পিকার ইলিয়াস আলীকে দেশের উদীয়মান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, “ইলিয়াস আলী আমাদের অত্যন্ত প্রিয় স্বজন এবং এদেশের একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড এভাবে বিচারহীন থেকে যাবে না। সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যই থাকবে।”