বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী’র প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা এই চুক্তি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি চুক্তির প্রতিটি দিক বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাভাবিক দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যে সম্পাদিত হয়েছে। কমিটির পর্যালোচনায় অস্বাভাবিক শর্ত এবং উচ্চমূল্যের কারণে চুক্তিটি বর্তমানে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এই সংকট সমাধানের জন্য দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বারস্থ হওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি বলেন, “জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই গ্রহণ করবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের এই ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। শুরু থেকেই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।