সোমবার দুপুরে দিকে গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মানতে রাজি না। বিরোধীদলী নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা এখন প্রতিবাদ করা শিখিয়েছে। বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করছে। যারা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালিয়ে এখন ‘না’ বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে। দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই শিবির কর্মী হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। গায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া বাজাতে আসবেন না।
তিনি আরও বলেন, গত ২১ জুন সংগঠিত সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন নিহত হয়েছে। আজকে এসে আমি তার সাক্ষী হয়েছি। আমি চাই, আর কোনো মায়ের কিংবা বাবা বুক খালি না হয়। এই বাংলাদেশকে আমরা সঠিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সকলের নিরাপদ দেখতে চাই। তিনি বলেন, সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডে সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সৈয়দ রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কার্যাভী, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম মন্ডল প্রমুখ।
এর আগে, শহীদ শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে তাদের কবর জিয়ারত করা হয়।