এর আগে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে নতুন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান।
এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
হুমায়ুন কবিরের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন কবির। শৈশবেই তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন হুমায়ুন কবির। পরে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক তিনটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন হুমায়ুন কবির। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে কাজ করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়ে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তারেক রহমানের সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন হুমায়ুন কবির। এর আগে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ ও কূটনৈতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক-বিষয়ক) পদে নিয়োগ পান হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
শুক্রবারের শপথের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন কবির আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।