প্রশ্নকর্তা: প্রথমেই বলি, আপনাদের মধ্যে বড় কে? আমি জানি আপনারা যমজ, কিন্তু এক বা দুই মিনিটের ব্যবধানে বড় কে?
ডেক্লান: আমি দুই মিনিটের বড়।
প্রশ্নকর্তা: আচ্ছা, তার মানে রোনান আপনি ছোট?
রোনান: হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা: আপনারা চার ভাই এবং সবাই ফুটবল খেলেন। আপনার বাবাও ফুটবল খেলতেন। তাহলে কি বলা যায় ফুটবল আপনাদের হৃদয়ে বা রক্তে মিশে আছে?
রোনান: হ্যাঁ, অবশ্যই। ফুটবল নিশ্চিতভাবেই আমাদের রক্তে। আমার মা থেকে শুরু করে দাদা-নানা—সবাই খেলাধুলা করেন।
প্রশ্নকর্তা: তার মানে জন্ম এবং বেড়ে ওঠার সময় থেকেই আপনারা ফুটবল খেলছেন?
ডেক্লান: হ্যাঁ, যতদূর মনে পড়ে আমি সকার... মানে ফুটবলই খেলছি। মনে রাখার মতো বয়স হওয়ার আগে থেকেই আমি বলে লাথি দিচ্ছি।
প্রশ্নকর্তা: মালদ্বীপে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? আপনারা দুজনেই উত্তর দিতে পারেন...
রোনান: অবিশ্বাস্য ছিল, সমর্থকরা সত্যিই অসাধারণ। মালদ্বীপে কত সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয়েছিলেন তা দেখে আমরা অবাক হয়েছিলাম। যদিও সেটি ছিল প্রতিপক্ষের মাঠ, কিন্তু আমাদের কাছে প্রতিটি ম্যাচই হোম গেমের মতো মনে হয়েছে। এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না, যা আমাদের এক দারুণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
প্রশ্নকর্তা: আপনি বললেন যে এরা আপনার দেখা সেরা সমর্থক—এই বাংলাদেশি সমর্থকরা?
ডেক্লান: ওহ, অবশ্যই। আমি ফুটবল খেলতে বিশ্বজুড়ে অনেক জায়গায় গিয়েছি, ইউরোপের গেমগুলোতেও গিয়েছি। কিন্তু একটি দলকে সমর্থন করার জন্য এমন আবেগ এবং ইচ্ছা আমি আগে কখনও দেখিনি।
প্রশ্নকর্তা: তার মানে মালদ্বীপে আপনারা বেশ উপভোগ করেছেন?
ডেক্লান: হ্যাঁ, ও (রোনান) যেমনটা বললো—মালদ্বীপে এত মানুষ খেলা দেখতে আসবে আমি আশা করিনি। বিদেশের মাটিতেই যদি এমন হয়, তবে এখানে (বাংলাদেশে) কেমন হবে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।
প্রশ্নকর্তা : আপনারা দুজনেই দলে নতুন, সরাসরি মালদ্বীপে গিয়ে যোগ দিয়েছেন। আগে অন্য খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফদের সাথে খেলেননি। তাহলে দলের সাথে মানিয়ে নিলেন কীভাবে?
রোনান: প্রথমত, দলের ছেলেরা সবাই অসাধারণ। তারা বিষয়টিকে খুব সহজ করে দিয়েছিল এবং শুরু থেকেই আমাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ছাড়া জয় পাওয়া অসম্ভব হতো। তারা কঠোর পরিশ্রম করে এবং আমি অনুশীলনেও সেটা দেখেছি। নতুন খেলোয়াড়দের প্রতি তাদের এই গ্রহণ করার মানসিকতা এবং পুরোনো খেলোয়াড়দের মতোই আমাদের জন্য লড়ে যাওয়াটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
প্রশ্নকর্তা: যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের ফুটবলের গুণগত পার্থক্য কেমন? কোন তুলনা করবেন?
রোনান: আসলে এটি ভিন্ন ধাঁচের খেলা। প্রতিটি দেশের নিজস্ব শৈলী আছে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে এই শৈলী কাজ করেছে—কারণ আমরা জিতেছি। আমাদের খেলোয়াড়দের পরিকল্পনা ছিল এবং তারা সেটি মাঠে দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তারা কৌশলগতভাবেও দক্ষ, তাই সতীর্থদের নিয়ে আমি খুবই খুশি।
প্রশ্নকর্তা: ফাহাদ ভাই (বাফুফের সহ-সভাপতি) বলছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে আপনাদের একটিই সংযোগ আছে—আপনাদের নানি। তাকে আপনারা কী বলে ডাকেন?
সুলিভান ব্রাদারস: হ্যাঁ, ‘নানি’। আমিও তাকে নানিই ডাকি।
প্রশ্নকর্তা: আচ্ছা, তার মানে তাকে আপনারা ভালো করেই চেনেন। তিনি আপনাদের বাড়িতেও গিয়েছেন। তিনিই কি আপনাদের বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য প্রথম অনুপ্রাণিত করেছিলেন?
ডেক্লান: সত্যি বলতে, ভক্তরাই আমার এই যাত্রা শুরু করিয়েছে। ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ (Save Bangladesh Football) ফ্যান অ্যাকাউন্টটি আমাকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। অনলাইনে ভক্তদের সমর্থন দেখে আমি কৌতূহলী হই। এরপর ফাহাদ ভাই এবং ফেডারেশনের সহায়তায় সব কিছু সম্পন্ন হয়েছে।
রোনান: আমার ক্ষেত্রেও তাই। মজার ব্যাপার হলো, আমি প্রথম যার সাথে কথা বলেছিলাম সেটি হলো ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’। তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমাকে নিয়ে পোস্ট দেয়। আমি ভাবলাম, ‘বাহ, দারুণ তো! আমি যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সেটা কেউ জানে আমি জানতামই না।’ এরপর ভক্তদের কারণে সব কিছু ছড়িয়ে পড়ে। রাতারাতি আমার অনেক ফলোয়ার বেড়ে যায় এবং আমি বুঝতে পারি ওখানকার মানুষের আবেগ কতটা বাস্তব!
প্রশ্নকর্তা: রোনান, আপনি কি নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুশি?
রোনান: হ্যাঁ, আমি খুশি। ট্রফি নিয়ে ফিরলে সবসময়ই মন ভালো থাকে। তবে কিছু ম্যাচে আমি আরও ভালো করতে পারতাম বলে মনে করি। কিন্তু ফুটবলে শেষ পর্যন্ত জয়টাই আসল।
প্রশ্নকর্তা: আপনার করা দুটি গোলের মধ্যে সেরা কোনটি? আমার মনে হয় প্রথমটি।
রোনান: হ্যাঁ, ফ্রি-কিকটি অবিশ্বাস্য ছিল—বুকে দেশের পতাকা নিয়ে সেটি ছিল আমার প্রথম গোল। এক দারুণ অনুভূতি!
প্রশ্নকর্তা: যখন পেনাল্টি নিতে গেলেন, মাথায় কী কাজ করছিল?
রোনান: আমি শুরু থেকেই জানতাম কী করবো। আমি ঠিক করেছিলাম বলটি চিপ করে মাঝখান দিয়ে মারবো। আমি এই ‘পানেনকা’ শটটি চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম। আমি হামজাকে (চৌধুরী) এটি করতে দেখেছি, তিনি আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা।
প্রশ্নকর্তা: পানেনকা গোল হওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
রোনান: আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। জার্সি খুলে গ্যালারির দিকে দৌড়ে গিয়েছিলাম।
প্রশ্নকর্তা: ডেক্লান আপনি কি টুর্নামেন্ট খেলার সময় খুব একটা পাননি বলে মনে করেন?
ডেক্লান: দেখুন, এটি একটি পেশাদার পরিবেশ। এখানে প্রতিযোগিতা থাকবেই এবং যখন আপনি প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার সময় পাবেন না, তখন আপনাকে লড়াই করে টিকে থাকতে হবে। আমি নেপাল ম্যাচে সুযোগ পেয়েছি এবং ভালো করার চেষ্টা করেছি। কোচ সেটি লক্ষ করেছেন।
প্রশ্নকর্তা: আপনাদের দুজনের পজিশন আলাদা—রোনান খেলছে ‘নম্বর নাইন’ (স্ট্রাইকার) হিসেবে আর ডেক্লান রাইট-ব্যাক হিসেবে। আপনাদের মধ্যে কমন কী?
ডেক্লান: যখন আপনি কারও সাথে ১৮ বছর ধরে খেলবেন, তখন কেমিস্ট্রি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। মাঠে ও কখন কী করবে আমি তা আগে থেকেই টের পাই।
প্রশ্নকর্তা: আশা করি শিগগিরই আপনারা জাতীয় দলের হয়েও খেলবেন। আপনারা কি তৈরি?
রোনান: আমি বিশ্বাস করি আমি প্রস্তুত। অবশ্যই ডাক পাওয়ার বিষয় আছে, তবে জাতীয় দলে খেলাটাই মূল লক্ষ্য।