গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের( পাউবো) সর্বশ্রেষ্ঠ তথ্য অনুযায়ী গতকাল রোববার বিকেল তিনটের থেকে আজ সোমবার তিনটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার, ঘাগট নদীর পানি জেলা শহরের পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ও গোবিন্দগঞ্জ চকরহিমাপুর পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও বন্যা মৌসুম তারপরও গাইবান্ধা নদ-নদী গুলোতে পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। সারেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর ও সদরের নদী তীরবর্তী এলাকায় অন্তত সাত শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙ্গনের তীব্রতায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের।
সদর উপজেলার মোল্লাচর ইউনিয়নের শিধাইল এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ২০ টি পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আরো অনেক পরিবার। সেখানকার একমাত্র সিধাইল কওমি মাদ্রাসাটি রয়েছে ভাঙ্গনের মুখে। ওই মাদ্রাসার ,মুহতামিম মাওলানা হাসান আলী জানায়, মাদ্রাসার ঘর দুটি অন্যত্র সরে নিয়েছি। আরো একটি ঘর ও মসজিদ ঘর দ্রুত সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নয়তো ওদুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ফজলুলপুর হলুদিয়া ও উরিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফজলুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনসার আলী মন্ডল জানায়, ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে খাটিয়ামারির চর ও চর চৌমোহনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অন্তত ৫০০ পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে।
সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানায়, এই ইউনিয়নের তিন ও চার নং ওয়ার্ডের লালচামার ও ৯ নং ওয়ার্ডর কেরানির চর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে অন্তত ২০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে । ভাঙ্গনের কবলে শতাধিক বিঘা হর্সলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে, রতনপুর ইউনিয়ন, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের হলুদিয়া ইউনিয়ন , বালাসিঘাট ইউনিয়ন রসুলপুর ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদরাসা গাছপালা ও আবাদি জমিসহ অসংখ্য জিনিসপত্র নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের শিকার মানুষ তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন নতুন কোন স্থানে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানায়, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চরাঞ্চলসহ নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো অন্তত ২৫ টি এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আমরা ভাঙ্গন ঠেকাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।