রবিবার বগুড়া জেলা জজ আদালতে তার জামিন আবেদন শুনানি শেষে ভারপ্রাপ্ত বিচারক কৌশিক আহমেদ জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানজীম আল মিজবাহ।
গত ২৩ জুন রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে বগুড়া সদর থানায় দায়ের হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যসহ অনেকেই তার মুক্তির দাবিতে প্রকাশ্যে মত দেন।
শেরপুর থানার ওসি এস এম মইনুদ্দিন সে সময় জানিয়েছিলেন, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ডা. মিশু সেখানে গিয়েছিলেন। রেস্তোরাঁর সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে বাগেরহাট সরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এ প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়।
তবে প্রশাসনিক পরিচয়ের বাইরেও বগুড়ায় তার আরেকটি পরিচয় বেশি আলোচিত—‘গরিবের ডাক্তার’। দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এই নামেই পরিচিতি পেয়েছেন। তাই তার গ্রেপ্তারের খবরে যেমন নানা মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তেমনি কারামুক্তির সংবাদেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার বহু রোগী ও শুভানুধ্যায়ী।
ডা. মিশুর আইনগত লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আপাতত পরিবারের কাছে ফিরেছেন, আর তার অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগীও আবার প্রিয় চিকিৎসককে কাছে পাওয়ার আশা করছেন।