এছাড়াও শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় অধিকতর অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. জোবাইদুল কবীর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বাছোয়াহাটি কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকায় জনসচেতনতামূলক ক্যাম্প করেন আইইডিসিআরের তদন্ত দল। এতে অংশ নেন স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শিয়ালের কামড় ও অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব এবং তথ্য সংগ্রহে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের একটি তদন্ত টিম।
আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনে ৬ সদস্যের তদন্ত টিমের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান।
দলের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন - একই বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিনহাজ মিয়া, মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. আব্দুল খালেক মো. দৌলত খান ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মো. তরিকুল ইসলাম,
ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েটের ডা. কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিপি-বি ফেলো ডা. মেরী হাপাং ।
আইইডিসিআরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কাজী আহমেদ জাকীর ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত দলকে কর্মস্থলে ফেরার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ আরও দুজন চিকিৎসা নিয়েছেন।
তারা হচ্ছেন - তারাপুরের নিজামখা গ্রামের ইব্রাহীমের স্ত্রী আইরীন বেগম (৩৫) এবং সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছোয়াহাটি গ্রামের আনারুল ইসলামের চার বছরের শিশু রোজামনি। নতুন আক্রান্ত আইরীন বেগমের স্বামী ইব্রাহীম হোসেন বলেন আইরীনের ডান হাতের আঙুলে ফোসকা পড়ে ফুলে গেছে। তারা রোগাক্রান্ত গরুর মাংস কিনে রান্না করে খেয়েছিলেন। ৪ বছরের শিশু রোজামনির দাদা আব্দুর রশিদ বলেন, তিনদিন আগে রোজামনির বাম চোখে সমস্যা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার চোখ ফুলে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মঞ্জুরুলের জবাই করা গরুর মাংস কাটাকাটির সময় তিনিও সেখানে ছিলেন। তার হাতেও ফোসকা হয়েছে। তারা সবাই ওই গরুর মাংস খেয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ৩৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদেরকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৯ জনকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কারও মধ্যে জলাতঙ্কের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তদের সহযোগিতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আক্রান্তদের চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর বলেন,গত কয়েক দিনে প্রায় ২০ হাজার গরুকে অ্যানথ্রাক্সের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ৭৫০টি গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম প্রাদুর্ভাব, তথ্য সংগ্রহ ও অধিকতর গবেষণার জন্য মাঠে কাজ করছে।
এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যবেক্ষণ দল আক্রান্ত এলাকায় নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ এবং প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে গবেষণার জন্য সরেজমিনে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছোয়াহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি অসুস্থ ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করা হয়েছিল। কই রোগাক্রান্ত গরুর মাংস কাটতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। এর কয়েকদিন পর ওই এলাকার প্রথমে চারজনের শরীরে ফোসকা দেখা দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা সেগুলোকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ হিসেবে শনাক্ত করেন।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৩৭ জনকে চিকিৎসা দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।