বুধবার( ১৩ মে) দুপুরের দিকে পাগলা কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত সুলতানা বেগম (৪২) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা যায়। গত ২২ এপ্রিল সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে সুলতানা বেগমসহ ৯ জন আহত হয়। তার মৃত্যুর পর কুকুরে আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতংক।
আজ বুধবার বিকেলের দিকে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্য বিবরণীটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনি বাজারে এলাকার মতিউর রহমানের স্ত্রী আফরোজা বেগম (৪২) ,একই ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া (৫০), খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫০) ও ছাপরহাটি ইউনিয়নের ছাপরহাটি গ্রামের খোকা ছেলে রতনেস্বর বর্মন (৪০)। রতনেশ্বর বর্মন একজন কাঠমিস্ত্রি। বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হন তিনি। এছাড়াও, কুকুরের কামড়ে আহতরা হলেন, উপজেলার উপজেলার ওই ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতনসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়। গত ২২ এপ্রিল ৯ টা থেকে ১১টার মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ি ও বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী পুরুষ ও শিশুসহ ১৩ জন আক্রান্ত হয়। ওই দিন অল্প সময়ের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়। আহতরা বিভিন্নখান থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। এরপরেও কারো কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে ৬ মে প্রথম মারা যান কারামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫০), নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া( ৫০) এর দুদিন পর ৮ মে মারা যান পার্শ্ববর্তী ছাপড়হাটি ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার রতনেশ্বর বর্মন (৪০)। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার ১২ মে মারা যায় আফরোজা বেগম। তার স্বামী মতিউর রহমান জানায়, কুকুর কামড়ে আহত হওয়ার পর তাকে পরপর তিনবার রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। কিন্তু তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার ১২ মে তার মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার রফিকুজ্জামান বলেন, কুকুর ঠেকানোর দায়িত্ব প্রাণসম্পদের। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ানো কেউই চিকিৎসা নিতে যাননি। সেখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কোন পদক্ষেপ নেই। এসবের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার। তবে যে সব এলাকায় এসব ঘটনা ঘটবে সেই এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর আমাদের কোন ভ্যাকসিন নেই।